টাকা নিতে এসে ‘জ্বীনের বাদশা’ আটক!

টাকা নিতে এসে ‘জ্বীনের বাদশা’ আটক!

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মারিয়া কাটুপাড়া এলাকার রাকিব শেখ (২৪)। নিজেকের পরিচয় দিতেন ‘জ্বীনের বাদশা’ বলে।

এ পরিচয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়েছেন। কিন্তু চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এসে আটকে গেছেন। তাকে স্থানীয়রা বেদম পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের পশ্চিম মায়ানী দীঘিরপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন রাকিব। লোভ সংবরণ করতে না পেরে ভুক্তভোগীর কাছে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। সেই টাকা নিতে এসেই আটক হন জ্বীনের বাদশা রাকিব।

শনিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় জনতার ধোলাই খাওয়ার পর গ্রেফতার হন রাকিব। বর্তমানে মিরসরাই থানা হাজতে আছেন তিনি। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি পিতলের মূর্তি, তসবিহ, একটি মোবাইল ও ব্যাগ জব্দ করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, গত ১০ আগস্ট মধ্যরাতে মায়ানী এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রীর ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করেন রাকিব। নিজেকে জ্বীনের বাদশা পরিচয় দেন তিনি। ওই গৃহবধূর নাম জেনে তাকে ভাগ্যবতি হিসেবে আখ্যা দেন। কথার জালে ফেলে ওই নারীর কাছ থেকে ৫১০০ টাকা হাতিয়ে নেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। ১১ আগস্ট ফের ভুক্তভোগীকে ফোন করেন রাকিব। এবার স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর ভয় দেখান। ভুক্তভোগীকে একটি স্বর্ণের মূর্তি দেওয়ার কথাও বলেন। এর জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি।

এ সময় ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি টের পান। পরে বাড়ির লোকদের বিষয়টি জানান। ভাগ্যবতী এ বিষয়ে সমাজসেবকদের সাহায্য নেন। সে অনুযায়ী রাকিবকে ধরতে পরিকল্পনা করেন।

আবুল হোসেন বাবুল নামে এক সমাজসেবক বলেন, পরিকল্পনা অনুসারে রাকিবকে টাকা দেওয়ার জন্য রাজি হন ওই নারী। পরে তাকে আসতে বলা হয়। একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে টাকা রাখা হবে বলে রাকিবকে জানানো হয়। টাকা পেলে রাকিব স্বর্ণের মূর্তি খুঁটির নিচে রেখে যাবেন বলে জানান।

পরিকল্পনা অনুসারে কাজ হয়। শনিবার সন্ধ্যায় রাকিব এসে টাকা নিতে গেলে স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলেন। তাকে বেদম পিটিয়ে খবর দেওয়া হয় মিরসরাই থানায়। পুলিশ এলে তাকে তুলে দেন স্থানীয়রা।

মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. খায়রুল জানান, রাকিব গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মারিয়া কাটুপাড়া এলাকার মৃত আলী আহম্মদ শেখের ছেলে। তার ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর প্রথমে তাকে আটক করা হয়। এরপর প্রতারণার বিষয়ে মায়ানী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শহীদ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় রাকিবকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

কথিত জ্বীনের বাদশা রাকিবের কাছ থেকে পিতলের মূর্তি, তসবিহ, মোবাইল ও ব্যাগ জব্দ করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top