কবিরাজের কথায় ‘হারানো যৌবন ফিরে পেতে’ মানুষ খুন

কবিরাজের কথায় ‘হারানো যৌবন ফিরে পেতে’ মানুষ খুন

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাসিন্দা লিটন মালিথা (৪০)। দাম্পত্যজীবনে অসুখী ছিলেন তিনি। এর সমাধান পেতে কথিত কবিরাজ আব্দুল বারেকের (৬৩) দ্বারস্থ হন লিটন। ওই কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরও কোনো কাজ না হওয়ায় হারানো যৌবন ফিরে পেতে কবিরাজ তাকে কারও পুরুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও চোখের মণি জোগাড় করতে বলেন।

কবিরাজের কথায় নিজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ নিয়ে যশোরের বাঘারপাড়ায় অবস্থান নেন লিটন। সেখানে গিয়ে আরেক কৃষিশ্রমিক নকিম উদ্দীনকে (৬০) হত্যার তার পুরুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও একটি চোখ নিয়ে যান।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান যশোরের যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

তিনি জানান, এ ঘটনায় যশোর ডিবি পুলিশের ওসি রুপন কুমার সরকার, ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম ও এসআই মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গত মঙ্গলবার (৩১ মে) চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা থেকে কবিরাজ আব্দুল বারেক ও বুধবার (১ জুন) মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের চড় বাইলজুরী এলাকা থেকে লিটন মালিথাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় লিটন মালিথার কাছ থেকে কেটে নেওয়া অঙ্গগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। কবিরাজ আব্দুল বারেক চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মোজাম্মেল হকের ছেলে। আর লিটন মালিথা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার মোহাম্মদ জুমা গ্রামের হানিফ মালিতার ছেলে।

সাইফুল ইসলাম জানান, যশোরের বাঘারপাড়ায় উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামে গত ২৬ মে ধান কাটার জন্য শ্রমিক হিসেবে নকিম উদ্দীনসহ তিনজনকে বাড়িতে নিয়ে যান পাইকপাড়া গ্রামের মৃত ইবাদ মোল্লার ছেলে বেনজির আহম্মেদ (৪২)। এর মধ্যে গত রোববার (২৯ মে) বিকেলে পারিশ্রমিকের টাকা বুঝে নিয়ে একজন চলে যান। লিটন মালিথা ও নকিম উদ্দীন রাতে খাবার খেয়ে এক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাড়ির মালিক বেনজির আহম্মেদ পরদিন সোমবার সকাল ৬টায় শ্রমিকদের ডাক দিলে বাইরে থেকে দরজা খোলা দেখতে পান। দরজা খোলা দেখে তিনি ভেতরে গিয়ে দেখেন জখম অবস্থায় কৃষক নকিম উদ্দীনের মরদেহ খাটের ওপর পড়ে আছে।

তিনি জানান, লিটন দীর্ঘদিন ধরে যৌনরোগে ভুগছিলেন। পরে স্থানীয় কবিরাজ আব্দুল বারেকের শরণাপন্ন হন তিনি। কবিরাজ তাকে যে কোনো একটি পুরুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও একটি চোখ উপড়ে নিয়ে আসলে হারানো যৌবন ফিরে পাবেন বলে জানান। সেই থেকে লিটন বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সুযোগ খুঁজতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ধান কাটার শ্রমিক সেজে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে কাজ নেন। সুযোগ বুঝে কবিরাজের দেওয়া ‘মহা ওষুধের’ উপকরণ যোগাড় করতে নকিম উদ্দীন নামে এই শ্রমিককে খুন করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে চলে যান মানিকগঞ্জ। বিষয়টি নিয়ে বাঘারপাড়া থানায় মঙ্গলবার (৩১ মে) মামলা করা হয়। আলোচিত এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদারের নির্দেশে মাঠে নামে যশোর ডিবি পুলিশ।

লিটন মালিথা গত মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ধান কাটার শ্রমিক সেজে আসেন। সেই শ্রমিকের হাট থেকে ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের চড় বাইলজুরী গ্রামের জনৈক কৃষক জিতু তাকে ধান কাটার কাজে বাড়িতে নিয়ে যান। অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার দুপুরে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের চড় বাইলজুরী এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের একজন সদস্য ধান কাটার শ্রমিক সেজে ধান কাটার কাজ করা অবস্থায় তার অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে ঘিওর থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে যশোর ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মঙ্গলবার ও বুধবার অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে যশোর ডিবি পুলিশ। এ সময় আটক লিটন মালিথার কাছ থেকে খুন হওয়া ব্যক্তির পুরুষাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও একটি চোখ উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩০ মে) দিবাগত রাতে যশোরের বাঘারপাড়ায় উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে কৃষি শ্রমিক নকিম উদ্দীনকে হত্যা করা হয়। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ ও আলামত হিসেবে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ। নিহত নকিম উদ্দীন বাঘারপাড়া উপজেলার ধুপখালী গ্রামের মৃত দলিলুদ্দিন মোল্লার ছেলে।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top