প্রকাশিত:
৩ এপ্রিল ২০২৫, ২৩:৩০
ফ্যাসিস্টবিরোধী মারমুখী আন্দোলন তাকে যুদ্ধের সাহস জোগায়। সেই সাহস আর বাবার ইচ্ছে পূরণের জন্যই রাশিয়া গিয়ে সেখানে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন মো. ইয়াসিন শেখ। তিনি গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালী গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার মীরের ছেলে। ২৭ মার্চ তিনি যুদ্ধে নিহত হন। এ খবর পরিবার জানতে পারে ঈদের পরদিন ১ এপ্রিল।
বৃহস্পতিবার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের শোকে মা ফিরোজা বেগম শয্যাশায়ী। পুরোপরিবারে চলছে মাতম। এ প্রতিবেদককে দেখেই তার মা বলে উঠেন, ‘বাবা, তোমরা আর ছেলেকে এনে দাও, আমার ছেলেকে এনে দাও। আমার সোনা মানিকের লাশটা যেন একবার হলেও দেখতে পারি।’
গত বছরের জানুয়ারিতে রাশিয়ায় একটি কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করে। গত সেপ্টেম্বর মাসে অফার লেটার পেয়ে চলে যায় রাশিয়া। মস্কো থেকে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দূরের ওই কোম্পানিতে তিন মাস চাকরির পর অনলাইনে আবেদন করে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক সৈনিক হিসেবে যোগ দেন।
ইয়াসিনের চাচাতো ভাই রবিকুল ইসলাম রবি জানান, রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে রাশিয়ান ভাষা শেখে ইয়াসিন। পরে বন্ধুর সহায়তার ইয়াসিন রাশিয়ায় একটি কোম্পানিতে ভালো চাকরি পায়। সবই ঠিকঠাক মতো চলছিল। পরে রাশিয়া সেনাবাহিনী যোগ দিয়ে সব উলটপালট হয়ে যায়।
নিহত ইয়াসিনের লাশ কী অবস্থা, লাশ দেশে আনা যাবে কী না তা নিয়ে কোনো তথ্যই পাচ্ছে না ইয়াসিনের পরিবার। ছেলের ছবি নিয়ে মায়ের কান্না থামছেই না।
এদিকে খবর পেয়ে গৌরীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা মরিচালি গ্রামে ইয়াসিনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের খোঁজ-খবর নেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম সাজ্জাদুল হাসান জানান, বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এ ব্যাপারে সব প্রকার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন: